খবরটি পেলাম জামায়াতের পত্রিকা নয়াদিগন্তে। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার (দিবা) বাংলার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্খাপন ও সে দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ করেছে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী। জানা গেছে, মোবাইলে ধারণকৃত ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে শিক্ষক পরিমল জয়ধর দুইবার শিকারে পরিণত করে।
 কিন্তু একই আবদার বারবার করায় মেয়েটি তার সহপাঠী ও অভিভাবকদের ঘটনা খুলে বলে এবং স্কুলের বসুন্ধরা শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের কাছে অভিযোগ করে। ঘটনাটি ঘটেছে মে মাসের প্রথম দিকে। কিন্তু গতকাল (জুলাই,২০১১) পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্খা নেয়নি, বরং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে, পরিমলকে তারা প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনা জানাজানির পর আজ পর্যন্ত অধ্যক্ষ বসুন্ধরা শাখায় যাননি। এ ঘটনার আগেও পরিমলের বিরুদ্ধে অন্য অনেক শিক্ষক অশালীন আচরণের বিষয়ে অভিযোগ করলে অধ্যক্ষ অভিযোগকারী শিক্ষকদের তিরস্কার করে বলেন, ‘আপনারা বেশি কনজারভেটিভ!’ পরিমলের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর একই শাখার আরেক শিক্ষক বরুণচন্দ্র বর্মণের বিরুদ্ধেও ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে এবং পরিমল ও বরুণচন্দ্র এই দুই শিক্ষকের ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। দশম শ্রেণীর সব শিক্ষার্থী একত্র হয়ে পরিমল ও বরুণচন্দ্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে অধ্যক্ষ বরাবর। অভিভাবকেরাও ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্খা নেয়ার জন্য। অধ্যক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্খা না নিলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনা সবাইকে জানানোর কথা বললে পরিমল সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলেছে, ‘তোমরা আমার কলা করবা! ’ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পরিমল জয়ধর একটি বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং করায়। ভুক্তভোগী মেয়েটি তার কাছে পড়ত। একদিন পরিমল তার ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জানায়, পরদিন সে পড়াবে না। তাই কেউ যেন পড়তে না আসে। কিন্তু পরিমল ভুক্তভোগী মেয়েটিকে পরে ফোন করে জানায়, আগামীকাল যেন সে পড়তে আসে। দশম শ্রেণীর ছাত্রীটি কোচিংয়ে গিয়ে দেখে তার অন্য সহপাঠীরা আসেনি। মেয়েটি রুমে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দিয়ে তার ওপর বর্বরতা চালায় পরিমল এবং এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে। শিক্ষকের এই অপকর্মে মেয়েটি আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলেও জানায় মেয়েটি। এরপর মেয়েটিকে সে ফোন করে জানায়, তার কথামতো না চললে মোবাইলের ছবি সে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবে। এতে মেয়েটি ভয় পেয়ে আরো দুইবার ওই শিক্ষকের শিকারে পরিণত করে নিজেকে। এরপরই মেয়েটি ঘটনা ফাঁস করে দেয়। ভিকারুননিসা একটি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ। শিক্ষকদের প্রায় ৯৯ ভাগই মহিলা। সাধারণত একটি শাখায় দুই-তিনজনের বেশি পুরুষ শিক্ষক থাকেন না। সেখানে একসাথে একটি শাখায় ছয়জন তরুণ পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। স্কুল সূত্র জানিয়েছে, এমনকি সে অন্য ম্যাডামদের সম্পর্কেও ছাত্রীদের সামনেই খারাপ মন্তব্য করে। স্কুল সূত্র জানিয়েছে, নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলে দুই বছরের আগে কোনো অবস্খাতেই প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারে না। কিন্তু পরিমলসহ ছয়জন পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর অন্য প্রবীণ শিক্ষকদের অধ্যক্ষ হোসনে আরা নির্দেশ দেন, ‘আপনারা তো পুরনো শিক্ষক। ওদেরকে কিছু প্রাইভেট কোচিং জোগাড় করে দেন। ওরা খুব ভালো শিক্ষক।’ ঘটনার এখানেই শেষ নয়, নতুন শিক্ষকেরা প্রথম অবস্খায় প্রাইমারি পর্যায়ের ক্লাস পান। কিন্তু এই নতুন শিক্ষকদের তিনি নবম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শাখাপ্রধানকে। এ জন্য অনেক সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ওপরের শ্রেণীতে ক্লাস দিতে হয়েছে। অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমের কাছে শিক্ষককর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে স্কুলের বাইরে। স্কুলের বিরুদ্ধে এসব লিখলে সুনাম নষ্ট হওয়া ছাড়া আর কী হবে? দয়া করে এসব ছড়াবেন না। পরিমলকে প্রশ্রয় দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, সে বিসিএস পরীক্ষায় চান্স পেয়েছে। নিজেই চলে যাবে। তার পরও ধরে নিতে পারেন আমরা তাকে বরখাস্ত করেছি। আগামী মিটিংয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্খা নেয়া হবে