ধূমপানবিরোধী আইনসহ এর কুফল সম্পর্কে এত প্রচার-প্রচারণা সত্ত্বেও এটা থেমে নেই। ধূমপান দুই ধরনের হয়ে থাকে—প্রত্যক্ষ বা নিজে ধূমপান এবং পরোক্ষ বা অন্যের ধূমপানের ফলে নির্গত ধোঁয়া থেকে ধূমপান। সমস্যা হলো, এর কোনোটিই স্বাস্থ্যসহায়ক নয়। একজন গর্ভবতীর জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভের প্রথম এবং শেষ তিন মাসে ধূমপান গর্ভস্থ শিশুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। তবে গর্ভকালীন পুরো সময় ধূমপানমুক্ত থাকা খুবই জরুরি।
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপানের ফলে নিচের সমস্যাগুলোর যেকোনোটা অথবা একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—
 গর্ভপাত
 অপরিণত শিশুর জন্ম
 স্বল্প ওজনের শিশু
 গর্ভকালীন রক্তস্রাব (গর্ভফুল নিচে অথবা আগেই আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে)
 ডেলিভারির সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
 মৃত শিশুর জন্মদান

গর্ভাবস্থায় মায়ের ধূমপানের মাত্রার সঙ্গে শিশুর বৃদ্ধির মাত্রার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সিগারেটের মধ্যে এমন কিছু ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে, যাকে গর্ভের সন্তান বিকলাঙ্গ করার জন্য দায়ী করা হয়। কারণ, এসব উপাদান গর্ভস্থিত শিশুর বুকে এবং হাতে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়। ধূমপায়ী নারীদের ঠোঁটকাটা এবং তালুকাটা সন্তান জন্মদানের হার অন্যদের তুলনায় বেশি।

জন্ম-পরবর্তী সময়ে ও মায়েদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপানের প্রতিক্রিয়ায় যা যা ঘটতে পারে তা হলো—
 স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন শিশু
 অমনোযোগিতা
 অতিচঞ্চলতা
 আচরণগত সমস্যা
 লেখাপড়ায় সমস্যা
 হঠাৎ মৃত্যু

গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের ধূমপানের প্রতিক্রিয়া কিশোর বয়সকেও প্রভাবিত করে। ধূমপায়ী মায়ের কিশোর বা স্কুলগামী বাচ্চাদের মধ্যে অধূমপায়ী মায়ের একই বয়সের ছেলেমেয়েদের তুলনায় আচরণগত সমস্যা বেশি দেখা যায়।
মায়েদের কাছে তাই আবেদন থাকবে, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার সঙ্গে সঙ্গে ধূমপান ত্যাগ করবেন। যেহেতু পরোক্ষ ধূমপানও প্রায় সমান ক্ষতিকর, তাই গর্ভবতী মায়েরা অবশ্যই ধূমপায়ীদের থেকে দূরে থাকবেন। ধূমপায়ী বাবাদের কাছে আবেদন, দয়া করে জেনেশুনে নিজের সন্তানের ক্ষতি করবেন না। গর্ভকালীন, জন্মের সময় এবং পরবর্তী সময়ের ক্ষতিকর প্রভাব জানার পরও নিজ সন্তানের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কেন করবেন? নিজের এবং অনাগত সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আগেই বাবা-মা যে-ই ধূমপায়ী হোন না কেন, ধূমপান ত্যাগ করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোন।